-
সালিমা মুকাওওয়াস: দ্য গডেস অফ আফ্রিকান ওয়ার
ভদ্রমহিলার নাম সালিমা বিনতে মুকাওওয়াস (লিবিয়ান অ্যাকসেন্টে সিলিমা এমগাওয়্যেস)। ঔপনিবেশিক ইতালির বিরুদ্ধে লিবিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তী নারী যোদ্ধা তিনি।
মুকাওওয়াস সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা যায়, সেগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। তার যুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানা যায় বিদেশী পর্যটক এবং সাংবাদিকদের লেখনী থেকে। অন্যদিকে তার প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে জানা যায় লিবিয়ান বিভিন্ন পত্রিকা এবং ব্লগ থেকে।
-
গাদ্দাফির শাসনামলের ১০টি অবিশ্বাস্য সুবিধা: কতটুকু বাস্তব, কতটুকু প্রপাগান্ডা?
মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফির গুণগান সম্বলিত একটি ভাইরাল লিস্ট পাওয়া যায় ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে, যেখানে গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়ানরা কত সুখে-শান্তিতে ছিল, সেটি বোঝানোর জন্য ১০টি বা ১২টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়।
লিস্টটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, দুদিন পরপরই কেউ না কেউ এটি শেয়ার করে, এবং অবধারিতভাবে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের কেউ না কেউ আমাকে সেখানে ট্যাগ করে এর সত্যতা জানতে চায়। অনেক দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত এর সত্যতা যাচাইমূলক একটি লেখা লিখেই ফেললাম।
-
গাদ্দাফি যেভাবে আমেরিকার উপর বাটপারি করে ক্যু করেছিলেন
মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফি ক্ষমতায় এসেছিলেন ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, রাজা ইদ্রিস আল-সেনুসির বিরুদ্ধে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।
রাজা ইদ্রিস আল-সেনুসিকে হাতে রাখার জন্য সিআইএ তাকে টাকা দিত। কিন্তু ইদ্রিস বৃদ্ধ হয়ে পড়ে পড়েছিলেন। দক্ষতার সাথে নিজের প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছিলেন না। আমেরিকার কথামতো কাজ করতে পারছিলেন না। ফলে ১৯৬৯ সালে সিআইএ সিদ্ধান্ত নেয়, তারা এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইদ্রিসকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।
কিন্তু সিআইএর জানা ছিল না, একই সময়ে এক তরুণ আর্মি ক্যাপ্টেন, মোয়াম্মার আল-গাদ্দাফিও অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিআইএর ক্যুয়ের শিডিউলের কয়েকদিন আগেই গাদ্দাফি ইদ্রিসের বিরুদ্ধে ক্যু করে বসেন।
কত অজানা রে 🙂
তথ্যসূত্র: Joseph J. Trento এর লেখা বই Prelude to Terror
লিবিয়া এবং গাদ্দাফি বিষয়ক আমার সবগুলো লেখা পড়তে পারেন এখান থেকে। আর বিভিন্ন বইপত্র থেকে পাওয়া আকর্ষণীয় বিভিন্ন তথ্য অবলম্বনে আমার বিভিন্ন লেখা পাবেন এই লিঙ্কে।
-
গার্দাবিয়া যুদ্ধের ইতিহাস: লিবিয়াতে ইতালিয়ান শাসন সমাপ্তির সূচনা
১৯১১ সালে ঔপনিবেশিক ইতালীয়রা লিবিয়া আক্রমণ করে। সে সময় লিবিয়া ছিল ক্ষয়িষ্ণু অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ কয়েকটি প্রদেশের সমষ্টি। অটোমানরা প্রথম দিকে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কামাল আতাতুর্ক সে সময় লিবিয়াতে অটোমান বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিল। তার নেতৃত্বে তবরুক এবং দারনায় অটোমান বাহিনী বেশ কিছু যুদ্ধে জয়লাভও করে।
কিন্তু তুরস্কের নিজের অবস্থাই তখন সুবিধার না। ফলে লিবিয়ার মতো কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পেছনে সামরিক শক্তি ক্ষয় করার পক্ষপাতী তারা ছিল না। ইতালিয়ানদের কাছ থেকে লিবিয়া রক্ষা করার চেয়ে ব্রিটিশদের হাত থেকে মিসর রক্ষা করা তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে মাত্র এক বছর যুদ্ধ করার পরই ১৯১২ সালে অটোমানরা ইতালির সাথে শান্তিচুক্তি করে। তারা রোডস দ্বীপের বিনিময়ে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ ইতালির হাতে ছেড়ে দেয় এবং লিবিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়।
-
জার্দ : যে লিবিয়ান পোশাক ধার করেছিল গ্রিক এবং রোমানরা
গ্ল্যাডিয়েটর সিনেমাটা দেখেছেন? অথবা স্পার্টাকাস? অথবা বেন হুর? অথবা প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যকে চিত্রায়িত করা যেকোনো সিনেমা?
খেয়াল করলে দেখবেন এসব সিনেমায় রোমান সম্রাটরা এবং তাদের সিনেটররা লম্বা সাদা এক ধরনের আলখাল্লা জাতীয় কাপড় এমনভাবে গায়ে পেঁচিয়ে রাখে, যা বাম হাতকে ঢেকে রাখে আর ডান হাতকে উন্মুক্ত রাখে।
-
ড্যানিশ লরেন্স অফ অ্যারাবিয়ার ইসলাম গ্রহণ এবং লিবিয়া ভ্রমণের গল্প
ড্যানিশ পর্যটক এবং সাংবাদিক ক্নুদ হাম্বোকে বলা হয় ড্যানিশ লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া। কারণ আসল লরেন্সের মতোই তিনিও ভালো আরবি জানতেন। তাদের দুজনেরই আরবি সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ ছিল, দুজনেই মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে ভ্রমণ করেছিলেন এবং ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের প্রতি শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপর লেখালেখি করেছিলেন এবং সর্বোপরি দুজনেই ছিলেন আরবদের উপনিবেশবাদ-বিরোধী সংগ্রামের একনিষ্ঠ সমর্থক।
তবে যে জায়গায় ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং গুপ্তচর টি.ই. লরেন্সের চেয়ে ক্নুদ হাম্বো এগিয়ে গিয়েছিলেন, সেটা হচ্ছে তিনি আরব এবং মুসলমানদের প্রতি তার পূর্ববর্তী তাচ্ছিল্যকে অতিক্রম করে পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এবং ১৯৩০ সালে লিবিয়া ভ্রমণ ওমর আল-মুখতারের সঙ্গী মুজাহেদিনদের সংগ্রামে প্রভাবিত হয়ে তিনি তাদেরকে সাহায্য করতে ব্রতী হয়েছিলেন।
-
লিবিয়া যেভাবে স্বাধীনতা লাভ করেছিল
লিবিয়া ছিল জাতিসংঘের রেজোল্যুশনের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করা প্রথম জাতিরাষ্ট্র। এবং আজকের দিনটা ছিল লিবিয়ার স্বাধীনতা দিবস। ১৯৫১ সালের এই দিনে (২৪ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করে “ইউনাইটেড কিংডম অফ লিবিয়া”।
লিবিয়া ছিল ইতালির কলোনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্মুখভাগে থাকা সেনুসি আন্দোলনের আমির মোহাম্মদ ইদ্রিস ব্রিটিশদের পক্ষে অবস্থান নেন এই আশায় যে, ইতালিয়ানরা পরাজিত হলে লিবিয়া স্বাধীনতা কিংবা পারতপক্ষে স্বায়ত্তশাসন লাভ করবে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইউরোপিয়ানরা লিবিয়াকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার চেষ্টা করে।